দারিদ্র্য সহায়তায় নতুন উদ্যোগ নিয়ে আসছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রথম ধাপে দেশের ১৩ জেলার একটি করে ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি চালু হবে। সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা।
এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জানানো হয়, শুরুতে দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা সম্প্রসারণ করে ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়।
সমন্বিত সহায়তা দেবে ফ্যামিলি কার্ড
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-এর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে সমন্বিত সহায়তা প্রদান করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে।
উপকারভোগী নির্ধারণে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তবে আয়-সম্পর্কিত তথ্য অনুপস্থিত থাকায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে সরেজমিন যাচাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবারগুলোকে চার শ্রেণিতে ভাগ করা হবে—হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ শতাংশ লক্ষ্যভিত্তিক ত্রুটি থাকায় বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে একাধিক সুবিধা একীভূত করে এই ত্রুটি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।
কার্ডপ্রতি পাঁচ সদস্য, নারী হবেন পরিবারপ্রধান
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডে সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পরিবারের সদস্যসংখ্যা পাঁচের বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে। একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না; তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রাপ্য সুবিধা নিতে পারবেন। নারীদের পরিবারপ্রধান হিসেবে কার্ড প্রদান করা হবে।
প্রথম ধাপে যেসব এলাকায় কার্ড দেওয়া হবে
প্রথম পর্যায়ে বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাগঞ্জ এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলো পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করবে। অনুদানের অর্থ ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সরাসরি বিতরণ করা হবে।







