আর্কাইভ
ads
logo

যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি: সুবিধার ভার যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৬ এ.এম
যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি: সুবিধার ভার যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই

ads

বহুল আলোচিত বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর হওয়ার আগেই পাল্টা শুল্ক বাতিল—নতুন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি আবারও প্রশ্নের মুখে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সুবিধার ভারসাম্যে যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করার পর সেই সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে। বিপরীতে বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যে পাল্টা শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। তবে যে পাল্টা শুল্ককে কেন্দ্র করে এই সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটিই আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় বাস্তবে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত সুবিধা অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর ২০২৫ সালের আমদানি–রপ্তানি তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড়ের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে অন্তত ২ হাজার ১৬টি পণ্য গত বছর বাংলাদেশ আমদানি করেছে। এসব আমদানির মোট মূল্য ছিল প্রায় ৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। চুক্তি কার্যকর হয়ে ধাপে ধাপে শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহার করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৪১৯ কোটি টাকা কমতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যে সুবিধা দেওয়ার কথা বললেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত বছর ওই তালিকা থেকে মাত্র ১৪টি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। পাল্টা শুল্কসুবিধা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের রাজস্ব ছাড়ের পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার বা প্রায় দেড় কোটি টাকা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক বাতিল হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে চুক্তি বহাল থাকলেও বাংলাদেশের সম্ভাব্য সুবিধা আরও কমে আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি নেমে আসবে প্রায় ১ লাখ ডলার বা ১ কোটি ২৩ লাখ টাকায়।

এনবিআরের বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, তৈরি পোশাক ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি খাত ‘হ্যাট অ্যান্ড আদার হ্যাটগিয়ার’। গত বছর এ খাতে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ডলারের পণ্য। চুক্তি অনুযায়ী, এই একক পণ্যে শুল্ক ছাড় মিললে ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যের সম্মিলিত সুবিধার তুলনায় প্রায় ৩৭০ গুণ বেশি লাভবান হতে পারত বাংলাদেশ।

কিন্তু চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগেই পাল্টা শুল্ক আদালতে অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় এর কার্যকারিতা অনেকটাই ক্ষীণ হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের যেসব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল, সেগুলোর রপ্তানি সীমিত থাকায় সামগ্রিকভাবে বাণিজ্য ভারসাম্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই পাল্লা ভারী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চুক্তি সইয়ের পর গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেছিলেন, দুটি বড় অর্জন হয়েছে। পাল্টা শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক শূন্য হবে। তবে পাল্টা শুল্ক বাতিল হওয়ায় এই দুই সুবিধার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

চুক্তির ভবিষ্যৎ কী?

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) ওয়েবসাইটে শনিবার পর্যন্ত আটটি ‘রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড’ চুক্তির নথি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের নামও রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান শনিবার মুঠোফোনে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তিটি হয়তো বাতিল হয়ে যাবে। বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর বোঝা যাবে, কী হতে যাচ্ছে।”

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর হওয়ার আগেই পাল্টা শুল্ক আদালতে অবৈধ ঘোষণা হয়েছে। ফলে চুক্তির তাৎপর্য অনেকটাই কমে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে দেশভিত্তিক বা পণ্যভিত্তিক অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে, যা বাংলাদেশকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।”

ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ