আর্কাইভ
ads
logo

রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজধানীতে বাজারে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৯ এ.এম
রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজধানীতে বাজারে স্বস্তি

ads

রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সবজি, ফল ও কিছু আমিষ পণ্যের দাম কমায় ক্রেতাদের চাপ কমলেও দ্রুত মূল্যপতনে লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষক—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, ইব্রাহিমপুর, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের শুরুর তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে।

দুই সপ্তাহ আগে যে লেবু হালিপ্রতি ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা ১০০-১২০ টাকায় নেমেছে। ছোট লেবু পাওয়া যাচ্ছে ৩০-৬০ টাকার মধ্যে। ইফতারের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ শসার দামও কমেছে। দেশি শসা কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা থেকে কমে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড শসা ৬০-১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা আগে ছিল ১০০-১২০ টাকা। টমেটোর দামও কমে কেজিপ্রতি ৩০-৬০ টাকায় নেমেছে, যা আগে ছিল ৬০-৮০ টাকা।

পেঁয়াজের বাজারেও স্বস্তি মিলেছে। শেওড়াপাড়া বাজারের ক্রেতা আওলাদ হোসেন বলেন, ‘রমজানের শুরুতে ৩ কেজি পেঁয়াজ ২০০ টাকায় কিনেছিলাম, আজ ১২০ টাকায় কিনলাম।’ বিক্রেতারা জানান, আগে ৬০-৭০ টাকার পেঁয়াজ এখন ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা থেকে কমে ১৫-২০ টাকায় এসেছে।

ফলের বাজারেও দাম কমেছে। সাগর কলার ডজন এখন ১৫০-১৬০ টাকা, যা আগে ছিল ১৮০-২০০ টাকা। আপেল ও মাল্টার দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। থাই ও দেশি পেঁপের দামও হ্রাস পেয়েছে।

আমিষ পণ্যের মধ্যে গরুর মাংসের দাম সামান্য কমে কেজিপ্রতি ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস আগের মতোই ১৩০০ টাকা কেজি। ডিমের ডজন ১০০-১২০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ৩০০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। চালের বাজারও স্থিতিশীল আছে।

কারওয়ানবাজার কাঁচাবাজার আড়ত ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান চৌধুরী সুজন বলেন, ‘সবজির সরবরাহ বাড়ছে, কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা কম, তাই দাম কমছে। অতিরিক্ত দাম বাড়া যেমন ভালো নয়, তেমনি দ্রুত দাম কমে যাওয়াও কৃষকদের জন্য ক্ষতিকর। একটি ন্যায্যমূল্য থাকা উচিত।’

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, ফরিদপুরে পেঁয়াজ উৎপাদনে কেজিপ্রতি খরচ হয়েছে ৩৬-৩৭ টাকা। রমজানের শুরুতে কৃষকেরা ৪৬-৪৭ টাকায় বিক্রি করে লাভ পেলেও এখন গ্রামের বাজারে দাম নেমে এসেছে ২৪-২৫ টাকায়। ঢাকায় পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ২৭-২৮ টাকায়। তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা কম দামে পেঁয়াজ পাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু কৃষকেরা লোকসানে পড়ছেন।’

আলু ব্যবসায়ী মো. সবুজ বলেন, গ্রাম থেকে সাড়ে ৭ টাকা কেজিতে আলু কিনে ঢাকার পাইকারিতে ১০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিবহন ও শ্রমিক খরচ প্রায় আড়াই টাকা। খুচরা বাজারে ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও কৃষকেরা কেজিপ্রতি ৪-৫ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

সবজি বিক্রেতা মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, রমজানের শুরুতে চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়ে যায়, পরে তা কমতে থাকে। তবে এবার পেঁয়াজ ও আলুর দাম তুলনামূলক বেশি কমেছে। পাশাপাশি লেবু, কাঁচামরিচ, শসা ও বেগুনের দামও হ্রাস পেয়েছে।



ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ