ব্যাংকিং খাতে চলমান সংস্কার থেমে থাকবে না—এমন স্পষ্ট বার্তাই দিল নতুন সরকার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে খাতটির সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে একান্ত বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ আশ্বাস দেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর-কে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গভর্নর।
সংস্কার অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়
বৈঠকে গত কয়েক মাসে ব্যাংক খাতে গৃহীত বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরেন গভর্নর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন,
‘আমরা কী কী সংস্কার করছি, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে খুবই ইতিবাচক।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার
মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তার ভাষায়, ‘মূল্যস্ফীতি তো কমাতেই হবে। এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই।’
খেলাপি ঋণ কমাতে কড়া পদক্ষেপ
খেলাপি ঋণ হ্রাসে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। গভর্নর জানান, বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদার, ঋণ পুনর্গঠন নীতিমালা আরও কঠোর করা, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের শনাক্তকরণ এবং ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংকারদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন যে পদক্ষেপগুলো কাজ করতে শুরু করেছে।’ একই সঙ্গে অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে নতুন ইসলামী ব্যাংক
এদিকে একীভূতকরণের মাধ্যমে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক মিলে গঠন করা হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। নতুন এ ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।
বৈঠকে নবগঠিত এই ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা হয়। গভর্নর বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। পাঁচ ব্যাংকের পুরোনো আমানতকারীরা ধীরে ধীরে অর্থ ফেরত পাচ্ছেন এবং নতুন আমানতও আসছে।
এমডি নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের সিদ্ধান্ত হলেও মনোনীত ব্যক্তি এখনো যোগ দেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গভর্নর জানান, তিনি অসুস্থ। ফলে নতুন এমডি খুঁজে নিতে হবে। ততদিন প্রশাসক ও পরিচালনা পর্ষদ সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে বোর্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি ও সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এমডি পদে নিয়োগের জন্য গভর্নরের নেতৃত্বাধীন কমিটি তিনজনের নাম সুপারিশ করেছিল। মেধাতালিকায় শীর্ষে ছিলেন নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান। তালিকার পরবর্তী প্রার্থী থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে, নাকি নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু হবে—এ প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।







