ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই হামলায় আরও ১৪৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করেছে, বৈরুতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান হুসেইন মাকলেদ নিহত হয়েছেন। এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ সোমবার এক কড়া হুঁশিয়ারিতে জানান, হিজবুল্লাহর বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল নাঈম কাশেম এখন তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তিনি নিজে সেনাবাহিনীকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সব ধরনের সশস্ত্র তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, তবে গোষ্ঠীটি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের প্রতিবাদে টানা তৃতীয় দিনের মতো পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। আইডিএফ জানিয়েছে, ইরান থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোঁড়া বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তারা শনাক্ত করতে পেরেছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হচ্ছে। উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত এরবিল বিমানবন্দরের আকাশসীমায় তিনটি সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিত করার খবর দিয়েছে রয়টার্স। উল্লেখ্য, ওই বিমানবন্দরে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে। এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার সকালে জানিয়েছে, দেশটিতে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে বিমানের ক্রুরা অক্ষত অবস্থায় বেঁচে আছেন এবং তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কুয়েত সরকার।







