মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্যের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান থেকে একের পর এক মিসাইল ইসরায়েলের দিকে ছোড়া হচ্ছে এবং সেগুলো প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্র নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে। চলমান হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা কার্যত সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে কাতার এয়ারওয়েজসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়েও। কুয়েতের আল জাহরা শহরে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে আল জাজিরা যাচাই করেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়। কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আসা মিসাইল ও ড্রোন ইরাকি প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করেছে।
অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ১৪৯ জন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরসহ দক্ষিণ লেবাননের ৫০টিরও বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের আক্রোটিরি ঘাঁটিতে একটি শাহেদ ড্রোন আঘাত হেনেছে। তবে এতে সীমিত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলাইডেস। তিনি জানিয়েছেন, সাইপ্রাস কোনো সামরিক অভিযানের অংশ নয়।
এদিকে ইরানেও হামলার মাত্রা বেড়েছে। সানান্দাজ শহরে মার্কিন ও ইসরায়েলি মিসাইল হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণে প্রাণহানির সংখ্যা ২০ জনে পৌঁছেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে মিনাবে, যেখানে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এই পরিস্থিতিতেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবে না বলে জানিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি বলেন, “ইরান এখন কেবল আত্মরক্ষা করছে এবং তারা এই যুদ্ধের সূচনা করেনি।”
ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি জানিয়েছেন, ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে সর্বোচ্চ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং খামেনির উত্তরসূরি নিয়ে কোনো অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে না। তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে ইসরায়েল লেবানন ও ইরানে হামলা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।
সূত্র: আল জাজিরা







