ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত বিধ্বংসী মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নেপথ্যে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের ব্যাপক কূটনৈতিক চাপের কথা ফাঁস করেছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
রোববার (১ মার্চ) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রকাশ্যে সৌদি আরব আলোচনার কথা বললেও গোপনে ইরানকে দমনে ওয়াশিংটনকে ক্রমাগত উৎসাহিত করে আসছিল।
প্রতিবেদনে সৌদি আরব ও ইসরায়েলকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের এক অস্বাভাবিক মিত্র জুটি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চারটি বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সামরিক অভিযান চালাতে প্ররোচিত করেন। বিশেষ করে, গত মাসে যুবরাজ সালমান একাধিক ব্যক্তিগত ফোনালাপে ট্রাম্পের কাছে ইরানে হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন, যদিও তার আনুষ্ঠানিক অবস্থান ছিল ভিন্ন।
ওয়াশিংটন পোস্ট আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পর্যালোচনায় বলা হয়েছিল যে ইরান আগামী এক দশকের মধ্যে মার্কিন মূল ভূখণ্ডের জন্য সরাসরি কোনো হুমকি হয়ে উঠবে না। তবুও এই দুই মিত্রের অব্যাহত চাপে ট্রাম্প 'অপারেশন এপিক ফিউরি' (Operation Epic Fury) পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করা, যার ধারাবাহিকতায় খামেনিসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের এই যৌথ কৌশল ট্রাম্পের ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা ক্ষমতা পরিবর্তনের নীতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।







