৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:২০ এ.এম

স্বাধীনতা দিবসে কোনো আলোকসজ্জা না করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বাধীনতা দিবসে কোনো আলোকসজ্জা না করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আসন্ন ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ঘিরে এবার দেশজুড়ে দেখা যাবে না চিরচেনা আলোকসজ্জা। জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা ও কৃচ্ছ্রসাধনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ বছর এমন আয়োজন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

রোববার (৮ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী আলোকসজ্জা করা হয়। তবে বর্তমান বাস্তবতায় জ্বালানি সাশ্রয় এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলার কথা মাথায় রেখে এবার এ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।”

তিনি জানান, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস যথাযথ মর্যাদা ও শোকের আবহে পালিত হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রধান দায়িত্ব পালন করবে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “২৬ মার্চ প্রত্যুষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিরোধী দলীয় নেতা এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণের কর্মসূচি রয়েছে। এসব অনুষ্ঠান যাতে নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং যাতায়াত সহজ থাকে—সে বিষয়ে আমরা সমন্বয় করেছি।”

ঈদুল ফিতরের আগে সম্ভাব্য ভোগান্তি কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলসংক্রান্ত বিষয় তদারকির জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপিকে ফোকাল পয়েন্ট করা হয়েছে। তিনি বিজিএমইএ, বিটিএমইএ ও বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

মব জাস্টিস প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, সব ধরনের অপরাধকে মব সহিংসতার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, “মব কালচার বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

এদিকে ঈদের আগে পোশাকশিল্প খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে সম্ভাব্য অস্থিরতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিজিএমইএ, বিটিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা হয়েছে। তার আশা, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন, ভাতা এবং বোনাস পরিশোধ করতে সক্ষম হবে।