২ মার্চ ২০২৬, ১২:১৫ এ.এম

পাকিস্তানে ইরানের সমর্থনে সমাবেশে নিহত অন্তত ২৫

পাকিস্তানে ইরানের সমর্থনে সমাবেশে নিহত অন্তত ২৫

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে পাকিস্তানে শুরু হওয়া প্রতিবাদ বিক্ষোভ ভয়াবহ সংঘাত ও সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। 

সোমবার (২ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি’র সংকলিত তথ্যানুযায়ী, দেশজুড়ে চলা এই বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে করাচিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেট অভিমুখে যাত্রা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। শত শত ইরানপন্থি বিক্ষোভকারী করাচির মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালালে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। করাচি পুলিশ সার্জনের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, কেবল করাচিতেই সংঘাতের ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় একটি হাসপাতালের প্রতিবেদনে গুলিতে ৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সহিংসতার আঁচ লেগেছে দেশটির উত্তরাঞ্চলেও। গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গিলগিটে সাতজন এবং স্কার্দুতে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে বুধবার পর্যন্ত কঠোর কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ইসলামাবাদে কয়েক হাজার মানুষের সমাবেশে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলে সেখানেও দুইজনের মৃত্যু হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে প্রয়াত ইরানি নেতার ছবি এবং আমেরিকা-ইসরায়েল বিরোধী ব্যানার দেখা গেছে।

গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এই হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় তিনি বলেন, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ইরানের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।

এদিকে করাচিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেটের জানালায় ভাঙচুর চালালে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের পাকিস্তানে চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।