২ মার্চ ২০২৬, ১১:১৫ পি.এম

ফেব্রুয়ারিতেই হত্যার শিকার ৩২ নারী ও কন্যাশিশু

ফেব্রুয়ারিতেই হত্যার শিকার ৩২ নারী ও কন্যাশিশু

ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই এক মাসেই অন্তত ৩২ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জনই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাশিশু। 

সোমবার (২ মার্চ) সংগঠনটির লিগ্যাল এইড উপপরিষদ ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত মাসে মোট ১৮৩ জন নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৭৩ জন কন্যাশিশু এবং ১১০ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন। অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর ৪টি কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন আরও ৭ জন, যাদের মধ্যে ৪ জনই শিশু। সাইবার অপরাধ ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হওয়ার ঘটনাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মহিলা পরিষদের তথ্যানুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে রহস্যজনকভাবে, যাদের মধ্যে ৩ জন কন্যাশিশু ও ১৪ জন নারী। একই সময়ে ৮ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এ ছাড়া যৌতুকের দাবিতে ৫ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ জনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অ্যাসিড ও অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২ জনের ক্ষেত্রে। পারিবারিক কলহে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ জন এবং একই সংখ্যক গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসে ১টি শিশুসহ ২ জন অপহরণ এবং ২ জন শিশুকে অপহরণ চেষ্টার শিকার হতে হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছেন ২০টি কন্যাশিশুসহ মোট ৪০ জন। এ ছাড়া শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৫ জন এবং ২ জন বাল্যবিবাহের হাত থেকে কোনোমতে রক্ষা পেয়েছেন। মহিলা পরিষদ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যান কেবল সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে; বাস্তবে নির্যাতনের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।