২ মার্চ ২০২৬, ০১:১৬ পি.এম

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত অন্তত ৩১

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত অন্তত ৩১

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২ মার্চ) জনবহুল এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এতে পুরো অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলার পর লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে কার্যত যুদ্ধাবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিঞ্জানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপ নিয়ে চলা গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। তবে লারিজানি এসব দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন।

তিনি স্পষ্টভাবে দুটি বিষয় তুলে ধরেন—প্রথমত, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করবে না ইরান; দ্বিতীয়ত, দেশটি এখন শুধুমাত্র আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং হামলার শিকার হওয়ার পরই তারা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান ইতোমধ্যে দুইবার আলোচনার পথ অনুসরণ করার চেষ্টা করেছে। প্রথমবার ২০২৫ সালে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে সেই প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সঙ্গে নতুন করে দুই দফা আলোচনার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু সেই সময়েই আবার হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানের দাবি, আলোচনার পরিবেশ তৈরি হলেই এমন আক্রমণ প্রমাণ করে প্রতিপক্ষ আসলে শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী নয়।

বর্তমান অচলাবস্থার কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে এখন গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। একদিকে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলা এবং অন্যদিকে ইরানের কঠোর অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহল সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানালেও বাস্তবে যুদ্ধবিরতির কোনো কার্যকর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং লেবানন ও কুয়েতের আকাশসীমায় সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সূত্র: আল জাজিরা