যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই জলসীমায় অবস্থানরত বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে ক্রমাগত সতর্কবার্তা পাচ্ছে। বার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়ে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। মূলত তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষিতে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই রুটটি অবরোধ করল ইরান।
এদিকে সংঘাতের বিস্তার ঘটিয়ে রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, কাতারের দোহা, কুয়েত এবং ইসরায়েলজুড়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিকে নতুন করে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান যদি খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে আগের চেয়ে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি দিয়ে তার জবাব দেবে যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি। তিনি ইরানকে কোনো ধরণের হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সতর্ক করেছেন। খামেনির প্রয়াণ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই ঘটনায় বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।