১ মার্চ ২০২৬, ০২:০০ পি.এম

ইরানের হামলায় কমপক্ষে ২০০ মার্কিন সেনা নিহত!

ইরানের হামলায় কমপক্ষে ২০০ মার্কিন সেনা নিহত!

মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের হামলার মাধ্যমে অন্তত ২০০ সেনাকে হত্যার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরানের এই দাবিকে ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ-৪’-এর বড় বিজয় হিসেবে প্রচার করছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এই তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস ও আল জাজিরার পৃথক প্রতিবেদনে এই পাল্টাপাল্টি দাবির তথ্য উঠে এসেছে।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের প্রতিশোধ নিতে তারা কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে কমপক্ষে ২০০ মার্কিন সেনাসদস্য হতাহত হয়েছেন। এছাড়া কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে স্থাপিত অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এফপি-১৩২’ রাডার সিস্টেমটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই অত্যাধুনিক রাডারটি ৫,০০০ কিলোমিটার দূরের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার সক্ষমতা রাখত।

ইরানি সামরিক বাহিনী আরও দাবি করেছে যে, তাদের নিখুঁত নিশানায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধ সহায়তাকারী জাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন নৌযানগুলোও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্টকমের মুখপাত্র আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এই সকল দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি এবং কোনো যুদ্ধজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই দুই শক্তির তথ্যের লড়াই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইরান যেখানে তাদের অভিযানকে সফল বলে দাবি করছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র এই ক্ষয়ক্ষতিকে নগণ্য বলে উল্লেখ করছে।