রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবকের হাত-পায়ের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধারের ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওবায়দুল্লাহ নামের ওই যুবককে হত্যার অভিযোগে তার রুমমেট ২১ বছর বয়সী শাহীন আলমকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, ব্যক্তিগত ক্ষোভের জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন শাহীন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং একটি হোমিও প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। ঘাতক শাহীন আলম মতিঝিলের হীরাঝিল হোটেলের একজন কর্মচারী। তারা দুজনই মতিঝিল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে রুমমেট হিসেবে বসবাস করতেন। আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশগুলো ৩০ বছর বয়সী ওবায়দুল্লাহর।
হত্যাকাণ্ডের পর দেহ গুম করতে শাহীন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অংশগুলো বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। গত শুক্রবার রাতে পল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে একটি পা উদ্ধার হয়। এরপর শনিবার সকালে বায়তুল মোকাররমের সামনে দুটি হাত এবং পরবর্তীতে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে আরও একটি পা উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিটি খণ্ড উদ্ধারের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী জানান, স্কাউট ভবনের সামনের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, একজন ব্যক্তি সাইকেলে চড়ে এসে কালো পলিথিনে মোড়ানো কিছু একটা ফেলে চলে যাচ্ছেন। সেই ভিডিও ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে শাহীনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন আলম খুনের দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওবায়দুল্লাহ প্রায়ই তাকে এবং তার পরিবারকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও কটূক্তি করতেন। এই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই শুক্রবার রাতে ওবায়দুল্লাহকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন শাহীন। এরপর ধারালো চাপাতি দিয়ে মরদেহ টুকরো টুকরো করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেন। পুলিশ ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতিটি জব্দ করেছে এবং মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।