১ মার্চ ২০২৬, ১২:২৯ এ.এম

যুবকের খণ্ডিত হাত–পা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

যুবকের খণ্ডিত হাত–পা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

রাজধানীর নয়াপল্টন, গুলিস্তান ও কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে এক যুবকের কাটা দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে নয়াপল্টনে একটি পা উদ্ধার করা হয়। এরপর শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গুলিস্তান স্টেডিয়ামের ১৩ নম্বর গেট থেকে দুটি হাত উদ্ধার করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আরেকটি পা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শাহীন আলম (২১) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আঙুলের ছাপ যাচাই করে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তিনি হলেন মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ (৩০), নরসিংদীর শিবপুরের বাসিন্দা। তিনি ‘গণস্বাস্থ্য হোমিও’ প্রতিষ্ঠানে বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ওবায়দুল্লাহ ও হীরাঝিল হোটেলের কর্মচারী শাহীন আলম একই ফ্ল্যাটে দুজনেই থাকতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন আলম স্বীকার করেছেন যে, ব্যক্তিগত কলহ ও অপমানজনিত কারণে তিনি ওবায়দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে টুকরা করা হয় এবং আলাদা আলাদা কালো পলিথিনে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

শাহীন আলম প্রথমে রাত ১২টা ১০ মিনিটে নয়াপল্টনের স্কাউট ভবনের সামনে একটি পা ফেলেন। পরে গুলিস্তানে স্টেডিয়ামের ১৩ নম্বর গেটে দুটি হাত ফেলে দেন। অবশেষে কমলাপুর রেলস্টেশনে আরেকটি পা ফেলা হয়।

মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী জানান, “শুক্রবার রাত দুইটার দিকে নয়াপল্টনে স্কাউট ভবনের সামনে একটি কাটা পা উদ্ধার করা হয়। এরপর শরীরের অন্যান্য অংশ খুঁজে বের করা হয়। শনিবার সকালে গুলিস্তান স্টেডিয়ামে দুটি হাত এবং দুপুরে কমলাপুর স্টেশনে আরও একটি পা উদ্ধার করা হয়। আঙুলের ছাপ যাচাই করে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।”

পুলিশের আরও তথ্য অনুযায়ী, স্কাউট ভবনের সামনে পা ফেলার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় একজন ব্যক্তি সাইকেল নিয়ে কালো পলিথিন ফেলে চলে যাচ্ছেন। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্ত শাহীন আলমকে শনাক্ত করা হয়। পরে হীরাঝিল হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ও সাইকেল জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন আলম হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।