২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪ পি.এম

ভোলায় গভীর রাতে ঘরে হামলা, বোমা বিস্ফোরণে আহত ৭

ভোলায় গভীর রাতে ঘরে হামলা, বোমা বিস্ফোরণে আহত ৭

ভোলার বোরহানউদ্দিনে গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় নারী-পুরুষসহ সাতজন আহত হয়েছেন। হামলার পর বোমাসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সি বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহতরা হলেন—হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন মুন্সি (৪৬), তার মা মাজেদা বেগম (৭৫), স্ত্রী সাথী বেগম (৩৫), ভাই আমানুল্লাহ মুন্সি (৫৫), ভাতিজা মাসুম প্রিন্স (২৬), মো. আবির (২৩) ও আশিক হাওলাদার। বিল্লাল, সাথী ও প্রিন্সকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবির ও আশিক বাড়ি ফিরেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শনিবার দিবাগত রাতে একদল অস্ত্রধারী তাদের বাড়িতে ঢুকে প্রথমে দেউলা ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহত আমানুল্লাহ মুন্সির ঘরের বাইরের ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। পরে তারা ব্যবসায়ী বিল্লালের কক্ষে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। চিৎকার শুনে আমানুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যরা পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা বোমাসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

স্বজনরা জানান, আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিল্লাল, তার স্ত্রী সাথী ও ভাতিজা প্রিন্সকে ভোলা সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে শনিবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়। পরিবারের দাবি, এর আগেও বিল্লালের স্থানীয় মজমবাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ এবং তার ভাইয়ের গরু চুরির দুটি ঘটনা ঘটেছে।

ব্যবসায়ী বিল্লালের বড় ভাই আকবর মুন্সি বলেন, “এটি পূর্বপরিকল্পিত বলেই মনে করি। সম্প্রতি আমার ছোট ভাই বিল্লালের স্থানীয় মজমবাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা, এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। হামলাকারীরা আমার ভাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশেই ঘরে ঢুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে এবং অন্যদেরকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। অন্য ঘরে থাকা আমার বড় ভাই ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পাওয়ার পর ঘর থেকে বের হওয়ায় তাদেরকেও এলোপাতাড়ি মারধরের পর সন্ত্রাসীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়েছে।

হামলায় নারী পুরুষসহ সাতজনকে আহত করা হয়েছে। তিনজনকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। আমরা বিচার চাই। আমাদের লোকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এখনও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারিনি।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাসীরা শুধু আমার মায়ের কানের একজোড়া সোনার দুল নিতে পেরেছে।”

আহত আমানুল্লাহ মুন্সি বলেন, “কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের উপরেও হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এবং বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়েছে, কাউকে চিহ্নিত করতে পারিনি। তারা ৫-৬ জনের একটা দল ছিল।”

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তদন্ত চলছে। তবে এখনো ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি।”