আজকের দিনে ফিরে আসে অসংখ্য স্মৃতি, যা আজম খানের অবদানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি একাধারে নতুন ধারার ব্যান্ডসংগীত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং বাংলাদেশে পপ গানকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সময়ের সঙ্গে প্রবাহমান পপ ধারার পথও তিনি তৈরি করেছেন।
প্রয়াত এই গুণী শিল্পী ২০১১ সালের ৫ জুন মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দেশের মানুষকে কাঁদিয়ে তিনি পরপারে চলে যান।
শৈশব কেটেছে ঢাকার আজিমপুর ও কমলাপুর এলাকায়। কৈশোরে ভাষা আন্দোলনের প্রভাব তার মননে গভীরভাবে স্থান করে নেয়। জানালার বাইরে মাতৃভাষার জন্য মানুষের প্রতিবাদ, আন্দোলন এবং প্রতিবাদী গান—এসবই তার সংগীতচেতনার ভিত্তি গড়ে তোলে।
স্কুলজীবনে বিভিন্ন গান শুনে তা মনে রাখতেন এবং নিজস্ব ভঙ্গিতে গান গাইতে চেষ্টা করতেন। প্রাতিষ্ঠানিক সংগীতশিক্ষা না থাকলেও, শ্রবণ ও চর্চার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে গানের জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বন্ধুদের সঙ্গে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আজম খান। পরিবারের সম্মতি নিয়ে ভারতে প্রশিক্ষণ নেন এবং সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পেও তার গান চালু থাকত; থালা-বাসনই হতো বাদ্যযন্ত্র। নতুন গান তৈরি করে তিনি সহযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করতেন।
স্বাধীনতার পর তাঁর সংগীতজীবন নতুন অধ্যায় শুরু হয়। বিটলস, রোলিং স্টোনসসহ পশ্চিমা ব্যান্ডের সংগীত শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পপ গান পরিবেশন শুরু করেন। পাড়া-মহল্লা পেরিয়ে ধীরে ধীরে তিনি সারাদেশে জনপ্রিয় হন। তাঁর গানের মূল উপজীব্য ছিল বঞ্চিত মানুষের জীবন, দেশপ্রেম, সামাজিক সচেতনতা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রেরণা।
‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘হাইকোর্টের মাজারে’, ‘এত সুন্দর দুনিয়ায়’, ‘অভিমানী’, ‘অনামিকা’, ‘পাপড়ি’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘আমি যারে চাইরে’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘ও চাঁদ সুন্দর’—এসব গান আজও শ্রোতাদের মনে সমানভাবে গেঁথে আছে।
১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১১ সালের ৫ জুন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে তার সৃষ্টি ও প্রভাব বাংলা সংগীতে আজও অমর, যা তাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণীয় করে রাখে।