ইলিশের পোনা বা জাটকা সংরক্ষণে চাঁদপুরসহ ছয় নদী অঞ্চলে দুই মাসের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করছে সরকার। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
জানা গেছে, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ শরিয়তপুর, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল ও ভোলার নির্ধারিত নদী এলাকায় এ সময়ে কোনো ধরনের মাছ আহরণ করা যাবে না। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নিবন্ধিত ৪০ হাজার ৫ জন জেলেকে চার ধাপে মোট ১৬০ কেজি করে চাল বিতরণ করবে সরকার। এ সময় জেলেরা তাদের নৌকা ও জাল মেরামতের কাজ করবেন।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে মাছ ধরতে গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে কমপক্ষে এক থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নদীতে জাটকার নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভেরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা, জাল ফেলা, মাছ ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
এদিকে অভয়াশ্রম কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে।
চাঁদপুর সদরের পুরান বাজার রনাগোয়াল মেঘনা তীরের জেলে শাহ জাহান গাজী ও সফিক আখন্দ বলেন, সরকার দুই মাস মাছ ধরতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সেই আদেশ আমরা মানবো। এরইমধ্যে নৌকা-জাল ওপরে উঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সরকারের কাছে সব সময় দাবি থাকে, যাতে চালের সঙ্গে আর্থিক সহায়তা দেয়। কারণ চালের সঙ্গে রান্না করতে তেল-লবণ, তরকারিসহ আনুষঙ্গিক জিনিসের দরকার।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান জানান, জাটকা সংরক্ষণে জেলে পল্লিগুলোতে প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত চাল বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হবে। তিনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের মতোই এ অভিযান কঠোরভাবে পরিচালিত হবে, যাতে কোনো অসাধু জেলে অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ ধরতে না পারে।
অন্যদিকে চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের নৌপুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। এরপরও কেউ আইন অমান্য করে জাটকা নিধনে নদীতে নামলে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।