২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৮ পি.এম

পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ, জাটকা সংরক্ষণে কঠোর উদ্যোগ

পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ, জাটকা সংরক্ষণে কঠোর উদ্যোগ

চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সকল মাছ ধরার ওপর মার্চ ও এপ্রিল মাসে দুই মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার পর থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। এ সময় মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন এবং মজুদ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জাটকা সংরক্ষণের জন্য মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদীকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৪৭ হাজার নিবন্ধিত জেলে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকবে। বেকার হওয়া জেলেদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪০০ জনকে চার মাসের জন্য বিজিএফের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। তারা প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে, মোট ১২০ কেজি চাল পাবেন।

সরেজমিনে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া মেঘনা উপকূলীয় জেলে পল্লীতে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা জাল ও নৌকা ডাঙায় তুলে রাখেন। জেলে জাহাঙ্গীর হোসেন শেখ বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় জাল-নৌকা ডাঙায় রাখি। কিন্তু যে খাদ্য সহায়তা পাই, তাতে সংসার চলে না।”

একই এলাকার জেলে আলী আক্কাছ মাঝি বলেন, “মাছ ধরা আমাদের জীবিকা। বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। শুধু চালে সংসার চলে না, সন্তানদের পড়াশোনা ও ঋণের কিস্তি নিয়ে সমস্যায় পড়ি।”

চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, “জাটকা সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স। আইন অমান্য করে জাটকা ধরা হলে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, “১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নৌ পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হবে। নৌসীমানার মধ্যে কেউ জাটকা ধরা অবস্থায় ধরা পড়লে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, “ইলিশের স্থায়ী উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার মধ্যে জাটকা সংরক্ষণ অন্যতম। জাতীয় স্বার্থে অংশীজনদের আরও তৎপর হতে হবে।”

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, “জাটকা সংরক্ষণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। আজকের জাটকা আগামী দিনের ইলিশ। সংরক্ষণ করলে সুফল জেলেসহ সবাই পাবেন।”