লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অটোরিকশা চোর সন্দেহে গণপিটুনি ঠেকাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে উত্তেজিত জনতার ইটের আঘাতে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে ১ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দর আলী ব্যাপারী বাড়িতে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— মোতালেব, শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদ। তাদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইফতারের ঠিক আগমুহূর্তে শাহআলম নামের এক চালক তার অটোরিকশাটি বাড়ির সামনের সড়কে রেখে ভেতরে যান। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রিকশাটি চুরি হয়ে গেলে তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় তল্লাশি চালিয়ে চার সন্দেহভাজনকে আটক করেন। অটোরিকশাটি উদ্ধার হলেও সেটির ব্যাটারিগুলো ততক্ষণে সরিয়ে ফেলে চক্রটি। এরপর আটককৃতদের একটি বাড়িতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মারধর শুরু করে উত্তেজিত জনতা।
খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। তবে চালক শাহআলম ও তার সহযোগীরা পুলিশকে বাধা প্রদান করেন। ‘নিজেদের বিচার নিজেরাই করবেন’— এমন দাবিতে একপর্যায়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় স্থানীয় কিছু মানুষ। দফায় দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে চার পুলিশ সদস্য জখম হন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
এদিকে পুলিশের এই ভূমিকার প্রতিবাদে অটোরিকশাচালক ও তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকা-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তায় বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর ও রামগঞ্জ সার্কেল) মো. জামিলুল হক জানান, ‘মব জাস্টিস’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বন্ধ করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন। সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশকে আহতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।