মাগুরা পৌরসভার ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে এই সহিংসতাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সদর থানায় উভয় পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ৩০০টি ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রণয়নকে কেন্দ্র করে এই ঝামেলার সূত্রপাত। বুধবার সকালে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরির সময় স্থানীয় আবু নামক এক ব্যক্তি কার্ডের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানান। ওয়ার্ড কমিটির নেতারা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই তুচ্ছ ঘটনাটিই পরবর্তীতে বুধবার রাতে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও কার্যালয় ভাঙচুরে রূপ নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে বাটিকাডাঙা মোড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় কার্যালয়ের সামনে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং বাটিকাডাঙা থেকে শিবরামপুর মোড় পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, এই ঘটনায় সদর থানায় ৩২ জনকে অভিযুক্ত করে দুটি ভিন্ন মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এক পক্ষের আবুল হোসেন ১২ জনের বিরুদ্ধে এবং অন্য পক্ষের মনিরুল শেখ ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা করেন। এজাহার দায়েরের পর বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ এজাহারভুক্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম (পিপিএম) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ভিজিএফ চালের কার্ড বণ্টন নিয়ে সৃষ্ট ঝামেলার জেরে এই সংঘাত ঘটেছে। মামলার বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও জননিরাপত্তায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।