২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২২ পি.এম

আখ সংকটে ১৩ দিন আগেই বন্ধ নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল

আখ সংকটে ১৩ দিন আগেই বন্ধ নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল

নাটোরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের মাড়াই কার্যক্রম ১৩ দিন আগে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে আখের অভাব ও চিনি আহরণের কম হারের কারণে। চলতি মৌসুমে আখের সরবরাহ কম থাকায় মিল কর্তৃপক্ষ চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি, যা প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক লোকসানের মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মিলের উপমহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আসহাব উদ্দিন মাড়াই বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমের মাড়াই কার্যক্রম গত ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল। চলতি মৌসুমে মিল জোনের ১৮ হাজার একর জমি থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন আখ সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল ১৩ হাজার মেট্রিক টন। তবে ১০৮ কর্মদিবস শেষে মিল মাত্র ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করতে পেরেছে, যার ফলাফল হিসেবে চিনি উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। ২৩ ফেব্রুয়ারি আখ সংকটের কারণে মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।

মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৮ হাজার মেট্রিক টন আখ কম মাড়াই হয়েছে, চিনি উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে ৩ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। শুধু আখের অভাব নয়, চিনি আহরণের হারেও ধাক্কা লেগেছে। প্রাথমিকভাবে চিনি আহরণের হার ৬.৫ শতাংশ হিসাব করা হলেও বাস্তবে এটি ৫.৬ শতাংশে সীমাবদ্ধ হয়েছে।

উপমহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আসহাব উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, “কৃষকদের আখ চাষে উৎসাহিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছিল। চলতি মৌসুমে আখের দাম মণপ্রতি ২৫ টাকা বৃদ্ধি করে ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া কৃষকদের মাঝে ১৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার চাষির আখের বিল দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “এত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে আখের আবাদ ও সরবরাহ পাওয়া যায়নি। মূলত আখের ঘাটতির কারণে আমাদের মাড়াই কার্যক্রম সময়ের আগে বন্ধ করতে হয়েছে।”