চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নুরজাহান বেগম (৫০) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ভাটেরহৃদ গ্রামে এই রহস্যজনক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। নিহত নুরজাহান কুয়েত প্রবাসী আবুল কালামের স্ত্রী এবং চার সন্তানের জননী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে নিজ ঘরের টয়লেটের ভেতরে নুরজাহান বেগমকে রক্তাক্ত ও গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতাল থেকে মরদেহটি হেফাজতে নেয় ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ।
নিহতের কলেজপড়ুয়া মেয়ে নুর সুলতানা তানহা জানান, সকালে তিনি কলেজে চলে গিয়েছিলেন। দুপুরে ফিরে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। পরে এক নিকটাত্মীয়ের বাসা থেকে ফিরে এসে দেখেন দরজা খোলা এবং ভেতরে টয়লেটে তার মায়ের নিথর দেহ পড়ে আছে। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম জানান, নুরজাহান বেগম বিভিন্ন এনজিও থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন এবং কিস্তির টাকার জন্য তিনি বেশ চাপে ছিলেন। ঘটনার দিন সকালেও এনজিওর লোকজন তাদের বাড়িতে এসেছিল বলে তিনি জানান। তবে ঋণের কারণে এই হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।