খুলনা মহানগরীতে দিনের আলোতে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে শেখ সোহেল (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ী প্রাণ হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে নগরীর আফিলগেট এলাকার একটি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন গ্যারেজের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল খানজাহান আলী থানার আটরা শেখপাড়া গ্রামের বাচ্চু শেখের ছেলে। তিনি মূলত মাছের ঘের এবং ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুর আড়াইটার দিকে নিজের মোটরসাইকেল মেরামত করাতে আফিলগেট এলাকার একটি গ্যারেজে যান শেখ সোহেল। কাজ চলাকালীন দুপুর ৩টা ৫ মিনিটের দিকে হেলমেট পরিহিত দুই যুবক একটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে হাজির হয়। মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা যুবকটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোহেলের মাথা লক্ষ্য করে ৪-৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং তার মৃত্যু হয়।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম জানান, হেলমেট থাকায় শুটারদের চেনা কঠিন ছিল। তবে পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ অপরাধীদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিহত সোহেলের বিরুদ্ধে অতীতে দুটি হত্যা ও একটি মারামারির মামলা ছিল। পুরনো কোনো শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণে এই হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নগরীতে ব্যবসায়ী নিখোঁজের আরও একটি ঘটনা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ লাইন মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন (৩৫)। তিনি খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের জামাতা। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজ সুজনের সন্ধানের দাবিতে বুধবার তার পরিবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।