২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩০ পি.এম

দেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

দেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও সহজ এবং আধুনিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

বুধবার সচিবালয়ে তার নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনায় বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক স্থান পায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত তিন বছর দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করায় আশানুরূপ বিনিয়োগ অর্জিত হয়নি। প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ নতুন মুখ শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে, যাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে দেশকে দ্রুত একটি বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্রে রূপান্তর করা হবে, যার প্রতিফলন অচিরেই দেখা যাবে বলে তিনি প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন। ইইউ-কে বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে অভিহিত করে তিনি আগামীতে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।

বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে তিনি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নন-ট্যারিফ বাধাগুলো দূর করতে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন এবং বাজারে সবার জন্য সমান সুযোগ বা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণের পরামর্শ দেন রাষ্ট্রদূত। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশীদারিত্ব আগামীতেও শক্তিশালী থাকবে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে স্পেন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, সুইডেন, ইতালি, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতগণসহ ইইউ-র বাণিজ্যিক উপদেষ্টা অংশ নেন।