২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৪ পি.এম

জাবি ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন

জাবি ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে কৌশলে বাসায় ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। 

আজ বুধবার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাসা থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ওই ছাত্রীকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে।

আক্রান্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যয়নরত এবং অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) সাবেক ছাত্র। পুলিশি পাহারায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে আসার পর তিনি উপস্থিত এক নারী শিক্ষকের কাছে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক জানান, অভিযুক্ত তারিকুলের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পূর্ব পরিচয় ও সম্পর্ক থাকলেও তা অনেক আগেই ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

ঘটনার দিন জরুরি আলোচনার অজুহাতে হলের ফটকে এসে ওই ছাত্রীকে একপ্রকার ব্ল্যাকমেল করে নিজের বাসায় নিয়ে যান তারিকুল। সেখানে পৌঁছানোর পর ছাত্রীর হাত-পা বেঁধে ফেলা হয় এবং চিৎকার রোধ করতে মুখে টেপ পেঁচিয়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তার শরীরে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। এমনকি পাশবিকতার চরম পর্যায়ে তার হাতে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওষুধ কেনার জন্য কক্ষের বাইরে গেলে ওই ছাত্রী কৌশলে নিজের বাঁধন খুলে চিৎকার শুরু করেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, শুরুতে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত কলহ মনে করে প্রতিবেশীরা এগিয়ে না এলেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী নিজেকে ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে ফেললে অভিযুক্ত তারিকুল ড্রিল মেশিন দিয়ে দরজা কাটার চেষ্টা চালান। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা জড়ো হলে এবং ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।