২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৫ পি.এম

“অভিনয় জগতে আয় যতই বেশি হোক, পরিকল্পনা ছাড়া কিছুই স্থায়ী নয়”

“অভিনয় জগতে আয় যতই বেশি হোক, পরিকল্পনা ছাড়া কিছুই স্থায়ী নয়”

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সিনেমার অঙ্গনে নাম করেছে তামান্না ভাটিয়া। মাত্র ১৫ বছর বয়সে অভিনয় শুরু করা এই অভিনেত্রী আজ দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত তারকা। বড় বাজেটের সিনেমা, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড এন্ডরসমেন্ট—সব মিলিয়ে আর্থিকভাবে সফল তিনি। তবু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তামান্না সতর্ক করে বলেছেন, অভিনয়জগতে নিয়মিত অর্থ উপার্জন করলেও সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া একসময় সব হারানোর ঝুঁকি থাকে।

তিনি বলেন, “শিল্পীরা ধারাবাহিকভাবে অনেক টাকা উপার্জন করতে পারেন। কিন্তু যদি ঠিক সময়ে সঞ্চয় না করেন বা সেই অর্থ বাড়ানোর উপায় না খুঁজেন, একসময় দেখবেন হাতে তেমন কিছুই নেই। অভিনয় পেশা বাইরে থেকে যতটা স্থিতিশীল মনে হয়, ভেতরে ততটাই অনিশ্চিত।”

বাবার পরামর্শ, আর্থিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তামান্নার আর্থিক বিষয়গুলো দেখভাল করেছেন তার বাবা। তিনি বলেন, “কম বয়সে উপার্জনের জগতে প্রবেশ করলে সঠিক দিকনির্দেশনা খুব জরুরি। আমার বাবা তখন আমার আর্থিক বিষয়গুলো সামলেছেন। এখনো পরামর্শ দেন। ছোট বয়সে যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন বাবা-মায়ের সহায়তা পেয়েছি।”

আজ তামান্নার বিনিয়োগ রয়েছে রিয়েল এস্টেট, গয়নার ব্যবসা এবং অন্যান্য খাতে। সম্প্রতি তিনি নিজস্ব ফাইন জুয়েলারি ব্র্যান্ডও চালু করেছেন। তাঁর মতে, আয় যতই হোক, পরিকল্পিত বিনিয়োগ ছাড়া ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।

তারকাদের আর্থিক পতনের উদাহরণ

তামান্নার সতর্কবার্তা নতুন নয়। ভারতীয় চলচ্চিত্রে অনেক তারকা দেখা গেছে অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে অমিতাভ বচ্চন ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়েছিলেন, তবে পরে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে দেশের অন্যতম ধনী অভিনেতা হন।

একইভাবে ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও আর্থিক দুরবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন জ্যাকি শ্রফ। আরও আগে হিন্দি ছবির স্বর্ণযুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ভগবান দাদা ও ভারত ভূষণ জীবনশেষে আর্থিক কষ্টে দিন কাটিয়েছেন।

এই উদাহরণগুলো দেখিয়ে তামান্না বোঝাতে চেয়েছেন, তারকাখ্যাতি ও উচ্চ আয় সব সময় স্থায়ী সুরক্ষা দেয় না।

খ্যাতির আড়ালে অনিশ্চয়তা

চলচ্চিত্রে সাফল্য অনেকটাই সময়, দর্শক রুচি এবং সুযোগের ওপর নির্ভরশীল। একসময় জনপ্রিয়তা কমে যেতে পারে। তাই অভিনয়ের বাইরে বিকল্প আয় এবং বিনিয়োগ কৌশল তৈরি করা জরুরি। তামান্নার কথায়, “একটা ভারসাম্যপূর্ণ পরিকল্পনা থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।” অর্থাৎ শুধু আয় নয়, সেই অর্থকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করাই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার চাবিকাঠি।

নতুন প্রজন্মের জন্য বার্তা

তিনি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদেরও পরামর্শ দিয়েছেন দ্রুত সাফল্য এবং মোটা পারিশ্রমিকের প্রলোভনে ভেসে না গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা গড়ে তোলার জন্য। তামান্না মনে করিয়ে দিয়েছেন, অভিনয়জগৎ আলোঝলমলে হলেও তার পেছনে কঠিন বাস্তবতা কাজ করে—খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু সচেতন বিনিয়োগই টেকসই নিরাপত্তার ভিত্তি।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস