২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৫ এ.এম

পুলিশ কি সাধারণ মানুষকে মারধর করতে পারে

পুলিশ কি সাধারণ মানুষকে মারধর করতে পারে

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবারের ওই ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার শাহবাগ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জনরোষের মুখে ইতিমধ্যে পুলিশের চার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হলেও জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—আইন কি পুলিশকে সাধারণ মানুষের ওপর হাত তোলার কোনো অধিকার দেয়?

আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, দেশের প্রচলিত কোনো আইনই পুলিশকে নিরপরাধ নাগরিক বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির ওপর শারীরিক নির্যাতনের লাইসেন্স দেয়নি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলমের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দায়িত্বরত চার পুলিশ সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল বিভাগীয় ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।

মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের মতে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হলেও কিছু সদস্যের অপেশাদার আচরণ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। ফৌজদারি কার্যবিধি (১৮৯৮) এর ৪৬ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ কেবল ততটুকু বল প্রয়োগ করতে পারে যা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অপরিহার্য। এর বাইরে অতিরিক্ত আঘাত বা শারীরিক নির্যাতন দণ্ডবিধি অনুযায়ী সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আদালত ২০১২ সালে এক আদেশে স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, পুলিশ অপরাধীকে সুরক্ষা দেবে, নির্যাতন নয়। কোনো ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হলেও তার গায়ে হাত তোলার ক্ষমতা পুলিশের নেই। এমনকি সংবিধান অনুযায়ী বিনা কারণে কাউকে আটক করার সুযোগও সীমিত। সাইফুজ্জামান বনাম রাষ্ট্র মামলাসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক রায়ে আদালত বারবার ‘যৌক্তিক ও আনুপাতিক’ বলপ্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

শিক্ষা ও আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বরা বলছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। পুলিশের কোনো সদস্য যদি আইনবহির্ভূতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তবে ভুক্তভোগীরা সরাসরি থানায় এজাহার বা আদালতে মামলা করার অধিকার রাখেন। ক্ষমতার এই অযৌক্তিক প্রয়োগ কেবল মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং আইনের শাসনের পরিপন্থী। স্বচ্ছতা ফেরাতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেবল প্রত্যাহার নয়, বরং কঠোর আইনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।