রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিকস ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ শাকিল (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। সুস্থ মানুষকে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার দাবি জানিয়ে হাসপাতালের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্বজনরা। মৃত শাকিল ভোলার লালমোহন উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মোহাম্মদ বাবুলের ছেলে এবং পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি মিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ে গুরুতর আঘাত পান শাকিল। গত ২৭ দিনে তার পায়ে চারবার অস্ত্রোপচার করা হয়। সোমবার রাতে সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি হিসেবে তাকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। নিহতের ভাই মাইনুদ্দিনের দাবি, সোমবার বিকেল পর্যন্ত তার ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় কথা বলেছেন। রাত ১১টার দিকে নার্সরা তাকে ঘুমের ইনজেকশন দেন এবং জানানো হয় সকালে তাকে বেডে দেওয়া হবে। কিন্তু সকালে স্বজনরা হাসপাতালে এলে তাদের হাতে নিথর দেহ তুলে দেওয়া হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, দায়িত্বরত চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় শাকিলের মৃত্যু হয়েছে। মাইনুদ্দিন জানান, হাসপাতালের ভেতরেই একজন চিকিৎসক অন্য সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন, যা শাকিল নিজে শুনে ভাইকে জানিয়েছিলেন। মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর দেয়নি এবং মামলা করতে চাইলে স্বজনদের হুমকি দেওয়া ও সাদা কাগজে সই নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি রোগীর প্রয়োজনীয় নথিপত্রও আটকে রাখা হয় বলে দাবি পরিবারের।
তবে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাতীয় অর্থোপেডিকস ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক ডা. আবুল কেনান। তিনি জানান, রোগীর অবস্থা হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে শেরে-বাংলানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিহতের পরিবার মামলা করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হবে। নথিপত্র আটকে রাখার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই অভিযোগ দায়ের শেষে নিহতের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন শোকাতুর স্বজনরা।