২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ পি.এম

গ্রাম আদালত আইনের সাংবিধানিক বৈধতা জানতে হাইকোর্টের রুল জারি

গ্রাম আদালত আইনের সাংবিধানিক বৈধতা জানতে হাইকোর্টের রুল জারি

গ্রাম আদালত আইন সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—এ প্রশ্নে হস্তক্ষেপ করেছে হাইকোর্ট। আইনটি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। সরকারকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে উত্থাপিত অভিযোগে বলা হয়, গ্রাম আদালত আইনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা সংবিধানের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

রিটে তিনি যুক্তি দেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ওপর বিচারিক ক্ষমতা ন্যস্ত করা সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ওই অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিষয়ে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিক আইনে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারের অধিকারী। কিন্তু গ্রাম আদালতে প্রশিক্ষিত বিচারিক কর্মকর্তা নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

রিটের পক্ষে নিজেই শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান ও আবদুল করিম।