২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪ পি.এম

বৈবিছাআ’র সাবেক সমন্বয়কের ওপর নৃশংস হামলা

বৈবিছাআ’র সাবেক সমন্বয়কের ওপর নৃশংস হামলা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চায়ের দোকানে বসা এক তরুণের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি এখন রাজধানীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার শিকার তরুণ ইব্রাহিম খলিল শুভ (২৬) দাবি করেছেন, পূর্ব বিরোধের জেরেই এ হামলা হতে পারে।

সোমবার দুপুরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) থেকে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন ইব্রাহিম। তিনি বলেন,

‘রোববার রাত ১০টার দিকে বাসার সামনে চায়ের দোকানে বসেছিলাম। তখন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তিনজন নামেন। তাদের মধ্যে দুজন বোরকা ও একজন পাঞ্জাবি পরা ছিলেন। নামার সঙ্গে সঙ্গে বোরকা পরা দুইজন চাপাতি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে আমার বাম হাতের কনুই প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হামলার পর তারা দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়।’

রোববার রাতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইব্রাহিমকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ইব্রাহিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর শাখার সাবেক সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

হাসপাতাল থেকে তিনি কে বলেন, হামলার সময় তিনটি মোটরসাইকেলে তিন থেকে পাঁচজন ব্যক্তি হামলাকারীদের পাহারা দিচ্ছিলেন।

ইব্রাহিমের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলন ঘিরে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগ-এর সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল এবং সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন-এর সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। তিনি জানান, সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি একাধিকবার মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দেন। প্রায় ছয় মাস আগেও একই ধরনের হুমকি পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন ইব্রাহিম।

তার ধারণা, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার মা রানু বেগম। তিনি বলেন, ‘ইব্রাহিম আমাদের একমাত্র সন্তান। আমার স্বামী ড্রাইভার। আশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করে ইব্রাহিম সংসারের হাল ধরবে। এখন হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি দ্রুত ইব্রাহিমের সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোববার রাতেই ইব্রাহিমের বাম হাতে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। একই হাতে আরও একটি অপারেশন প্রয়োজন হবে।

এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন মেসবাহ উদ্দিন, মোহাম্মদপুর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি বলেন, তদন্ত কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ইব্রাহিম জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার সঙ্গে কারও দ্বন্দ্ব ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।