রোজার দিন শেষে ইফতারের টেবিলে ঠান্ডা এক গ্লাস বেলের শরবত যেন স্বস্তির প্রতীক। সুগন্ধি ও মিষ্টি স্বাদের এই পানীয় অনেকের প্রিয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এটি কি সত্যিই স্বাস্থ্যসম্মত, নাকি শুধু স্বাদের জন্যই জনপ্রিয়?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বেলের কিছু সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও এ নিয়ে শক্ত ও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত। তাই বেলের শরবতকে ওষুধের বিকল্প ভাবার সুযোগ নেই; বরং এটি পরিমিত মাত্রায় গ্রহণযোগ্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত পানীয় হিসেবেই বিবেচ্য।
বেলের পুষ্টিগুণ
বেলে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক উপাদান—ট্যানিন, ফ্ল্যাভোনয়েড ও কুমারিন। এসব উপাদান—
শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ বা ফোলা কমাতে সহায়ক হতে পারে
হজমপ্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে
রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে
এই কারণেই লোকজ চিকিৎসায় ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, হাঁপানি ও ডায়াবেটিসসহ নানা সমস্যায় বেল ব্যবহারের প্রচলন আছে। তবে গবেষকদের মতে, এসব ক্ষেত্রে বেলের কার্যকারিতা প্রমাণে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই।
রমজানে কেন এত জনপ্রিয়?
দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীর কিছুটা পানিশূন্য ও অবসন্ন হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় বেলের শরবত—
ডায়াবেটিস থাকলে কী করবেন?
কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে যে বেল রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে। ফলে যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বেলের শরবত রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
ডায়াবেটিস থাকলে—
বেলের শরবতকে ‘ওষুধ’ হিসেবে না দেখে পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত পানীয় হিসেবে গ্রহণ করাই উত্তম।
বেশি খেলেই কি বেশি উপকার?
অতিরিক্ত বেলের শরবত উল্টো সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন—
তাই ইফতারে মাঝারি ঘনত্বের এক গ্লাস শরবতই যথেষ্ট।
যাঁদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা দরকার
কারণ, বেল কিছু ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে—কখনো বাড়াতে, কখনো কমাতে।
স্বাস্থ্যকরভাবে বানাবেন যেভাবে
শেষ কথা
পরিমিত পরিমাণে এবং কম চিনি দিয়ে তৈরি বেলের শরবত ইফতারে হতে পারে প্রশান্তিদায়ক ও তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর পানীয়। তবে এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা না করে স্বাদ ও সতেজতার অংশ হিসেবেই উপভোগ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র: WebMD