চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে মোট ৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার (৫৩৮ কোটি) সংগ্রহ করেছে। দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহকে সহায়তা দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, “চলতি অর্থবছরে আমরা নিলামের মাধ্যমে ৪ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছি। আজ ১২২ টাকা ৩০ পয়সা কাটঅফ রেটে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২৩ মিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে চলতি ফেব্রুয়ারিতে মোট কেনা হয়েছে ১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মূলত ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে ডলারের সরবরাহ বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ক্রয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আরিফ হোসেন খান জানান, রিজার্ভ এখন ৩০ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ পদক্ষেপ মূলত রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয়ের রেমিট্যান্স প্রবাহ বজায় রাখতে, পাশাপাশি ডলারের দরপতন রোধে নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনার কার্যক্রম শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে ব্যাংকিং চ্যানেলে সমপরিমাণ টাকাও প্রবেশ করছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালের একই মাসের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি এবং ডিসেম্বরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, রেমিট্যান্স ও রপ্তানিকারক সমর্থন নিশ্চিত করতে, এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা হচ্ছে।