২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৩ পি.এম

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় যারা

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা। দলটির বর্তমান ও সাবেক নারী নেত্রীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও নানা পর্যায়ে তদবির চালাচ্ছেন।

নির্বাচনে এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হওয়ায় আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টির মধ্যে বিএনপি পাবে ৩৫টি। এসব আসনের বিপরীতে ইতোমধ্যে শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিধি অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। একটি সংরক্ষিত আসনের জন্য ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়োজন। সে হিসাব অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী পাবে ১১টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাবে একটি আসন। বাকি তিনটি আসন স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া কার্যত শুরু হয়েছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো যাদের মনোনয়ন দেবে, মূলত তারাই নির্বাচিত হবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন শেষ করা হবে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, কারা মনোনয়ন পাবেন বা কী যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সাধারণ নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া যোগ্য নারী নেত্রী, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় মহিলা দল ও ছাত্রদলের বর্তমান-সাবেক নেত্রীরা অগ্রাধিকার পেতে পারেন। পাশাপাশি দলের স্থায়ী কমিটির কিছু নেতার পরিবারের সদস্যদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

যদিও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা থেমে নেই। কেউ সরাসরি দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে দেখা করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক ত্যাগ ও ভূমিকার কথা তুলে ধরে মনোনয়নের প্রত্যাশা জানাচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, সানজিদা ইসলাম তুলি, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মাহমুদা হাবিবা, নাজমুন নাহার বেবী, হেলেন জেরিন খান, জেবা আমিনা খান, সাবেক এমপি নাভীলা চৌধুরী, রেহানা আক্তার রানুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আরও অনেক নেত্রী।

মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ বলেন, "আমি তো মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু দল থেকে দেয়নি। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। ৯৬’ সাল থেকে বিএনপির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বেগম খালেদা জিয়া, দলের আনুগত্যে থেকেছি। একাধিকবার কারাগারে ছিলাম। রিমান্ডে নির্যাতনে হাত-পা প্যারালাইসড হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আশা করি দল এখন সংরক্ষিত আসনে আমাকে মনোনয়ন দেবে।"

ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, "বিগত ১৭ বছর মাঠের রাজনীতিতে সম্মুখসারিতে ছিলাম। দলের দুঃসময়ে সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। আমি আশা করি দল ত্যাগীদের মূল্যায়ন করলে আমাকেও মূল্যায়ন করবে।"

বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, "২০১৫ সাল থেকে আমার সংগঠনের ব্যানারে দেশের মানুষের জন্য এবং দলের গুম, খুনের শিকার যারা হয়েছেন তাদের আইনি সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য সহযোগিতাও করেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে তারুণ্যের রাষ্ট্র চিন্তার সংলাপগুলো শুরু করেছি।"

সাবেক সংরক্ষিত এমপি রেহানা আক্তার রানু বলেন, "আমি আগেও দুইবার সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য ছিলাম। এবারও প্রত্যাশা করি দল আমাকে রাখবে।"

এদিকে দলের ভেতরে একটি সূত্র জানিয়েছে, এবার এক পরিবার থেকে দুইজনকে সংসদ সদস্য না করার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে কিছু আলোচিত নাম বাদ পড়তে পারেন।

বগুড়া-৬ আসন নিয়েও আলোচনা

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—দুই আসনেই জয় পান। আইন অনুযায়ী, একাধিক আসনে বিজয়ী হলেও একটি আসন রাখতে হয়। সে অনুযায়ী শপথের আগে তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন।

আইন অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করতে হবে। এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান ও ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আপাতত তাদের সরাসরি রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা কম; অন্য কাউকে প্রার্থী করা হতে পারে।