রমজানে ইফতার শুধু দিনের রোজা ভাঙার মুহূর্তই নয়, এটি মুসলিম সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক সংহতির এক অনন্য প্রতীক। দেশের বিভিন্ন মসজিদে প্রতিদিন আয়োজন করা হয় গণইফতারের, যেখানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—কোনো কারণে রোজা রাখতে না পারলে কি মসজিদের ইফতারে অংশ নেওয়া যাবে?
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা রমজান মাস পাবে, তারা যেন এ মাসে রোজা পালন করে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)
ইসলামে রমজানের রোজা প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের জন্য ফরজ। তবুও অভ্যাসের অভাব, অসুস্থতা বা অন্য নানা কারণে কেউ কেউ রোজা রাখতে পারেন না। শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা না রাখলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে—এ বিষয়ে ইসলামে কঠোর সতর্কতা রয়েছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন ওঠে, রোজা না রাখা ব্যক্তি কি মসজিদের গণইফতারে অংশ নিতে পারবেন?
ইসলামি স্কলারদের মতে, বৈধ কোনো কারণে রোজা রাখতে না পারলেও মসজিদের ইফতারে অংশ নেওয়া যাবে। সাধারণত যারা ইফতারের আয়োজন করেন, তারা উপস্থিত ব্যক্তিদের রোজাদার কি না—এ ধরনের কোনো শর্ত আরোপ করেন না। অনেক সময় আয়োজকরা জানেন যে উপস্থিতদের মধ্যে কেউ কেউ রোজা রাখেননি, তবুও কাউকে বাধা দেওয়া হয় না। এ ধরনের পরিস্থিতিকে অনুমতি হিসেবে ধরা যায়।
সুন্নাহর আলোকে এ বিষয়ে একটি হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের কাউকে যখন খাবারের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং আমন্ত্রণকারীর প্রতিনিধির সঙ্গে আসে, তবে সেটাই অনুমতি। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৫১৯০)
অর্থাৎ স্বতঃস্ফূর্ত আমন্ত্রণের মাধ্যমে পাওয়া খাবার গ্রহণ করা বৈধ। তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। যদি ইফতারের খাবার সীমিত হয় এবং রোজাদারদের জন্য পর্যাপ্ত না থাকে, তাহলে রোজা না রাখা ব্যক্তির উচিত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। কারণ কোনো অবস্থাতেই রোজাদারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া সমীচীন নয়।