সাভারের আশুলিয়ায় দশ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা ও পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম (৩৪) নামে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে আশুলিয়া থানার স্মৃতিসৌধ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার ‘আশিক ভিলা’ থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের স্ত্রী কৌশলে পালিয়ে গেছেন।
নির্যাতনের শিকার শিশু সামিয়া আক্তার পাবনার আমিনপুর থানার সিন্দুরিয়া গ্রামের রজব আলীর মেয়ে। সে গত ১১ মাস ধরে সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক হাসপাতালের চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামের বাসায় কাজ করছিল। ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, কাজের প্রথম মাস ভালো কাটলেও পরবর্তী ১০ মাস তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। বিভিন্ন সময়ে গরম খুন্তি দিয়ে তার মুখ, হাত-পা ও পিঠে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে গৃহকর্তার নির্যাতন সইতে না পেরে সামিয়া বাসা থেকে পালিয়ে রাস্তায় চলে আসে। পরে পথচারীদের কাছে নিজের ওপর হওয়া নির্মমতার কথা জানালে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এবং ওই চিকিৎসকের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, শিশু গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত চিকিৎসককে এই মামলায় অভিযুক্ত দেখানো হয়েছে এবং তার পলাতক স্ত্রীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।