ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় বালু ব্যবসায়ীদের ছোড়া গুলিতে অন্তত চারজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। রোববার সকালে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এই সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন একই গ্রামের বাসিন্দা আলিম মিয়া, নূরু মিয়া, সফর মিয়া ও নুরুল মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবীনগরের মেঘনা নদীতে সামিউল ট্রেডার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠান ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ করছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র ইজারার নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করে চরলাপাং গ্রামের ফসলি জমির খুব কাছ থেকে বালু তুলে নিচ্ছে। এর ফলে গ্রামটির কৃষিজমি ও বসতবাড়ি নদী ভাঙনের মুখে পড়লে রোববার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে বাধা প্রদান করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে রায়পুরার মির্জাচর এলাকা থেকে আসা একদল বালু ব্যবসায়ী স্পিডবোট ও ট্রলারে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীর ওপর এলোপাতাড়ি ছররা গুলি বর্ষণ করে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বালু উত্তোলনের বিরোধ নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর গুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।