২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৭ পি.এম

ডায়াবেটিক রোগীদের রোজা রাখার ক্ষেত্রে করণীয় ও বর্জনীয়

ডায়াবেটিক রোগীদের রোজা রাখার ক্ষেত্রে করণীয় ও বর্জনীয়

রোজার মাসে ডায়াবেটিস রোগীরা যাতে ঝুঁকিমুক্তভাবে সিয়াম পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ওষুধ ব্যবস্থাপনা, খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কীভাবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রেখে নিরাপদে রোজা রাখা যায়—সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গাইডলাইন প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ডা. শাহজাদা সেলিম জানান, অনেক রোগী নিয়মিত ওষুধ ও খাদ্য গ্রহণ করলেও রোজার সময় হাইপোগ্লাইসেমিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতায় পড়েন। তিনি বলেন, রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য সমন্বিত দিকনির্দেশনার প্রয়োজন থেকেই এই গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজার সময় ডায়াবেটিস রোগীদের প্রধান ঝুঁকি হলো রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) অথবা বেড়ে যাওয়া (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)। এ কারণে নিয়মিত গ্লুকোজ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম কয়েক দিন দিনে পাঁচবার রক্তে শর্করা মাপার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—সকালে, বেলা ১১টা, বিকাল ৪টা, ইফতারের আগে এবং ইফতারের দুই ঘণ্টা পরে।

ওষুধ ও খাবারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার কথাও বলা হয়েছে। সাধারণত দিনের ওষুধ ইফতারের সময় এবং রাতের ওষুধ সেহরিতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যারা ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে সেহরির ডোজ কমানোর প্রয়োজন হতে পারে, যা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৩ দশমিক ৯-এর নিচে নেমে গেলে অথবা ১৬ দশমিক ৭-এর বেশি হলে রোজা চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এমন অবস্থায় দ্রুত খাবার বা প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া কোভিড-১৯ সংক্রমণ, হৃদরোগ, স্ট্রোক বা ডায়রিয়ার মতো শারীরিক জটিলতা থাকলে রোজা না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দিনের বেলায় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে হালকা ব্যায়াম বা হাঁটার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগীই নিরাপদ ও সুস্থভাবে রোজা পালন করতে পারবেন।