গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার তরফকামালপুর গ্রামে পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছে ২৫টি ওড়াও পরিবার। দৈনন্দিন জীবন, হাট-বাজার, কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তারা বাংলা ভাষা ব্যবহার করলেও পারিবারিক যোগাযোগ, গান, গল্প, কবিতা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় এখনো কুরুখ ভাষার অস্তিত্ব রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ভাষার ব্যবহার কমে যাওয়ায় অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে।
ওড়াও সম্প্রদায়ের সদস্য ধানুচা শিল জানান, কুরুখ ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা না থাকায় লিখিতভাবে ভাষা চর্চার সুযোগ নেই। ফলে নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে মাতৃভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করায় কুরুখ শেখার ক্ষেত্রও সীমিত হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “২১শে ফেব্রুয়ারি আসে প্রতিবছর, কিন্তু আমাদের ভাষা রক্ষার উদ্যোগ কোথাও নেই। পাঠ্যপুস্তক বা আলাদা স্কুল না থাকলে একদিন পুরোপুরি হারিয়ে যাবে আমাদের কুরুখ ভাষা।”
একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সম্প্রদায়ের চাঁদনী বালা। তার অভিযোগ, মাতৃভাষা ব্যবহারের অভ্যাস প্রায় বিলুপ্তির পথে। অনেকেই এখন কুরুখ ভাষায় স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না। তার মতে, কুরুখ ভাষার জন্য বর্ণমালা তৈরি এবং আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিলে ভাষাটি সংরক্ষণ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. খলিলুর রহমান বলেন, “ভাষা হারিয়ে গেলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জাতিগত বৈচিত্র্যও নিঃশেষ হয়ে যায়। একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলা ভাষার নয়, পৃথিবীর সব মাতৃভাষার। তাই এসব নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ জরুরি।”
ওড়াও সম্প্রদায়ের প্রবীণ সদস্য সাবলু মোরাং জানান, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কুরুখ ভাষা হারিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। একুশের চেতনার এই মাসে তারা মাতৃভাষা সংরক্ষণে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।