দুপুরের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও নগরবাসী শহীদ মিনারের নতুন রূপ দেখতে ভিড় করেছেন। সন্ধ্যা সাতটার পর ধীরে ধীরে দর্শক ও সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
আগামীকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ দিন ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হবে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবস পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, শহীদ মিনারের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। তিনি আজ শুক্রবার সকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন।
বিকেলে দেখা যায়, শহীদ মিনারের চারপাশে নতুন সাজ ও ফুলগাছের সৌন্দর্য উপভোগ করতে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধু বা সঙ্গী নিয়ে ছবি তুলছেন। বাঁশের বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে দর্শকরা স্মৃতিচ্ছবির ছবি তুলে যাচ্ছেন।
সন্ধ্যার পর দোয়েল চত্বর মোড়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, জগন্নাথ হল মোড় ও শিববাড়ি মন্দির মোড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে রাস্তা বন্ধ করা হয়। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ছাড়াও বিভিন্ন পয়েন্টে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান নেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়।
রাত পৌনে ৮টার দিকে শহীদ মিনারে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। শুধুমাত্র যাদের কাছে অমর একুশের নিরাপত্তা পাস রয়েছে, তারা ঢুকতে পারেন।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “মহান শহীদ দিবসে ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ব্যাপক লোক সমাগম হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকও মোতায়ন থাকবে। শৃঙ্খলা ও শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় রেখে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানাচ্ছি।”