রমজানের দিনভর রোজা রাখার পর মাগরিবের আজান শুনে ইফতার করা হয়। টেবিলে নানা ধরনের খাবার সাজানো দেখে আকর্ষণ অনুভব হয় স্বাভাবিকভাবেই, কারণ সারাদিন শরীর ক্ষুধার্ত থাকে। কিন্তু ইফতার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে শক্তি ফেরার প্রত্যাশা থাকে, তা সবসময় সত্যি হয় না। অনেকেরই খাওয়া শেষ হবার পরপরই ক্লান্তি অনুভূত হয়।
১. একবারে বেশি খাবার খাওয়া
সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ করে অতিরিক্ত খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হয়। তখন রক্তপ্রবাহের বড় অংশ অন্ত্রে চলে যায়, যাতে খাবার দ্রুত হজম হয়। এর ফলে মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে তন্দ্রাচ্ছন্নতা ও অবসন্নতা দেখা দেয়।
২. পানিশূন্যতা
সারাদিন পানি না খাওয়ায় শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ইফতারে পর্যাপ্ত পানি বা তরলজাতীয় খাবার না খেলে ক্লান্তি আরও বাড়ে।
৩. ভারী ও অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার
ডুবো তেলে ভাজা, মসলাদার পদ এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার হজম প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় নেয় এবং শরীরকে ভারী ও অবসন্ন করে।
ধীরে ও পরিমিতভাবে খাওয়া – ইফতার শুরু করুন একটি খেজুর ও এক গ্লাস পানি দিয়ে। কিছুক্ষণ বিরতি নিন। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে খেলে হজম সহজ হয় এবং শরীর ভারী লাগবে না।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন – ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। সঙ্গে রাখতে পারেন ফল, ফলের রস, শরবত বা ডাবের পানি। এগুলো শরীরকে সতেজ রাখে।
হালকা খাবার বেছে নিন – ভাজাপোড়া কমিয়ে ছোলা, সালাদ, স্যুপ বা হালকা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এতে শক্তি পাওয়া যায়, তবে শরীর ভারী লাগে না।
এক কাপ চা বা কফি – ইফতার থেকে কিছুক্ষণ পর হালকা চা বা কফি পান করা যেতে পারে। এতে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত বা শক্ত কফি এড়িয়ে চলা ভালো।
কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন – ইফতারের পর সরাসরি শুয়ে পড়বেন না। ১০–১৫ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি হজমে সাহায্য করে এবং শরীরকে চাঙ্গা রাখে।
নামাজের মাধ্যমে বিরতি – ইফতারের শুরুতে হালকা কিছু খেয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করুন। নামাজের সময় খাবার হজমের জন্য শরীর সময় পায়। এরপর ধীরে ধীরে বাকি খাবার খেলে ক্লান্তি কম অনুভূত হয়।
ইফতারের পর ক্লান্তি স্বাভাবিক। তবে সঠিক খাবারাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি এবং হালকা শারীরিক নড়াচড়া মেনে চললে এটি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। রমজানে সুস্থ থাকতে সচেতনতা ও পরিমিত খাবার গ্রহণ জরুরি।