সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার ভিত্তিতে বৈধ হিসেবে উপস্থাপন করার মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে সংস্থাটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়েছে, দেশের এই ধরনের দুর্নীতি সহায়ক অপচেষ্টা শুরুতেই প্রতিহত করতে দলের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধীকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগের দিন পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয়, সেটা নিয়ে হয়তো বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে।”
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এই মন্তব্যকে নিন্দা জানিয়ে বলেন, “পরিবহনমন্ত্রী যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, তা মন্ত্রিপরিষদের প্রায় সব সদস্যের দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে কার্যকর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উল্টে দেওয়া হয়েছে। পরিবহন মন্ত্রীর এই মন্তব্য তাঁর নিজ দলের অঙ্গীকার এবং প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে বিব্রতকরভাবে অবমূল্যায়ন করেছে।”
ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেছেন, “মন্ত্রী যেভাবে সড়ক ও পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তা স্পষ্টতই একটি অনৈতিক ও যোগসাজশমূলক দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা। এর সরাসরি প্রভাব ভুক্তভোগী পরিবহন খাতের পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে, যাদের এ অবৈধ চাঁদাবাজির বোঝা বহন করতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “মালিক ও শ্রমিক কল্যাণকে বৈধতার আড়াল হিসেবে দেখানো কেবল বিভ্রান্তিকর নয়; বরং দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যপূর্ণ ব্যবস্থাকে ধরে রাখার অপতৎপরতারও ইঙ্গিত দেয়।”
টিআইবির নির্বাহী উল্লেখ করেন, “যদি সড়কে চাঁদাবাজি সমঝোতার নামে গ্রহণযোগ্যতা পায়, তবে এর তত্ত্বটি বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, প্রশাসন, সরকারি ক্রয়, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যাংক ও বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খাতে কিভাবে প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রিত হবে—এ ধরনের প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসবে।”