২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৬ পি.এম

চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই, স্বর্ণ ও নগদ অর্থসহ ২জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই, স্বর্ণ ও নগদ অর্থসহ ২জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে প্রবাসীর কাছ থেকে ডিবি পরিচয় দিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ ছিনতাই করার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ সোহেল ওরফে সোহেল রানা (৪০) ও উত্তম চৌধুরী ওরফে রবি চৌধুরী (৪০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ডিবি দক্ষিণ বিভাগ অভিযান পরিচালনা করে দুজনকে আটক করে। এসময় ৫ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণালংকার এবং ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শফিউল আলম গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দুবাই থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে তিনি ভাড়া গাড়িতে করে বায়েজিদ বোস্তামী থানার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন, সঙ্গে ছিলেন প্রায় ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, চারটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, নগদ বাংলাদেশি টাকা ও দুবাই দিরহামসহ অন্যান্য মালামাল।

তাদের গাড়িটি খুলশী থানার টাইগারপাস থেকে লালখান বাজারের মধ্যবর্তী ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভার এলাকায় পৌঁছালে নোহা গাড়ি তাদের গতিরোধ করে। চারজন ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে ওয়াকিটকি দেখিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। এরপর তারা জোরপূর্বক শফিউল আলমের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ১৯ ফেব্রুয়ারি খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি দক্ষিণ বিভাগে ছায়া তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে পরিদর্শক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে মোহাম্মদ সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হাটহাজারী থানার ইছাপুর বাজারের আমিন মার্কেটে অভিযান চালিয়ে উত্তম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই করা নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হাটহাজারীর এসএম শপিং সেন্টারের বন্ধু সুন্দর জুয়েলার্স নামের দোকান থেকে ৬৯.৩৯ গ্রাম স্বর্ণও উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা স্বীকার করেছেন, তিনি ও তার সহযোগীরা বিদেশফেরত প্রবাসীদের টার্গেট করে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই করতেন, আর ছিনতাই করা স্বর্ণ উত্তম চৌধুরীর মাধ্যমে বিক্রি হতো। সোহেল রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান।