পরিবারের সঙ্গে কাতারে সাধারণ জীবনযাপন করছিলেন চিত্রনায়িকা নিঝুম রুবিনা। নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন, সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছিল। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকেই তিনি চমকে যান—নিজের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবর দেখে।
পরে জানা গেছে, সুরভী বেগম নামে এক নারী গত ২৯ জানুয়ারি নিঝুম রুবিনা ও তাঁর স্বামী মামুনুর রশীদ রাহুল-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় আরও দুজনকে আসামি করা হয়। আদালত ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে হাজির না হওয়ায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন, যা বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার এক সাক্ষাতকারে নিঝুম রুবিনা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “বাদীকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না এবং মামলা হওয়ার আগেও বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানতাম না। ফেসবুকে ঢুকে জানতে পারলাম, যেখানে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই, সেখানে এভাবে মামলা দিয়ে আমার মানহানি করা হচ্ছে।”
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ অক্টোবর সাড়ে ১২ লাখ টাকা ধার নেওয়া হয়েছিল, যা দুই মাসের মধ্যে পরিশোধের শর্তে লিখিত চুক্তি করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না পাওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি বাদীপক্ষের।
তবে নিঝুম রুবিনার পক্ষের দাবি ভিন্ন। তিনি বলেন, লেনদেনটি তাঁর স্বামীর মাধ্যমে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সুদে নেওয়া অর্থ। প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা কিস্তি দেওয়া হচ্ছিল। গত বছরের অক্টোবর মাসে বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। এরপর বাদী নারী বাসায় এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করলে তিনি থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
নায়িকা আরও জানান, রামপুরা থানায় অভিযোগের পর পুলিশ মধ্যস্থতায় সমঝোতা হয়। সেই অনুযায়ী নগদ দুই লাখ টাকা পরিশোধ করা হয় এবং বাকি ৯ লাখ টাকা দুই ধাপে (গত বছরের ডিসেম্বর ও এ বছরের মার্চে) দেওয়ার কথা হয়। তবে ডিসেম্বর মাসে সাড়ে চার লাখ টাকার চেক প্রস্তুত থাকলেও বাদী তা গ্রহণ করেননি বলে দাবি রুবিনার। তিনি বলেন, “হঠাৎ করেই পুরো ৯ লাখ টাকা একসঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, যা অযৌক্তিক।”
নিজের মানহানির বিষয়টি উল্লেখ করে নিঝুম রুবিনা জানিয়েছেন, পাল্টা মানহানির মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা শেষে আগামী রোববার মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।