২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৫ পি.এম

জাহাজ থেকেই সমুদ্রে বাড়ছে প্লাস্টিক দানা, সামুদ্রিক জীবন ঝুঁকিতে

 জাহাজ থেকেই সমুদ্রে বাড়ছে প্লাস্টিক দানা, সামুদ্রিক জীবন ঝুঁকিতে
পৃথিবীর সমুদ্র ও মহাসাগরে প্লাস্টিক দূষণ এক দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রে লাখ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য ভেসে বেড়াচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগে পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হলেও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।
এবার বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো প্লাস্টিক দানা বা পেলিয়েট। মাত্র ২–৫ মিলিমিটার ব্যাসের এই ক্ষুদ্র কণাগুলো মূলত প্লাস্টিক পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সমস্যা হলো, এগুলো হালকা এবং পিচ্ছিল হওয়ায় সংরক্ষণ বা জাহাজে পরিবহনের সময় খুব সহজেই ছড়িয়ে যায়। একবার সমুদ্রে মিশে গেলে এগুলো পরিষ্কার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। বালি বা শেওলার সঙ্গে মিশে এগুলো বছরের পর বছর সমুদ্রের স্রোতে ভেসে থাকতে থাকে।
প্লাস্টিক দানার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে সামুদ্রিক প্রাণীদের ওপর। মাছ, কচ্ছপ এবং বিশেষ করে সমুদ্রপাখিরা এই দানাগুলোকে খাবার ভেবে গিলে ফেলে। বিজ্ঞানী জেনিফার ল্যাভার্স বলেন, “বর্তমানে সমুদ্রে যে পরিমাণ প্লাস্টিক দানা মিশছে, তা লাখ লাখ তরুণ সামুদ্রিক পাখির জন্য ‘খাবার’ হওয়ার যোগ্য। কিছু অঞ্চলে ১০০ শতাংশ প্রাণীর দেহে প্লাস্টিক পাওয়া যায়। এগুলো প্রাণীর পরিপাকতন্ত্র বন্ধ করে দেয়, ফলে তারা পুষ্টিহীন হয়ে মারা যায়। এছাড়া, দানাগুলো বিষাক্ত রাসায়নিকও বহন করে। ছোট প্রাণীরা এগুলো খেলে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে বিষ বড় শিকারি প্রাণীদের দেহেও পৌঁছে যায়।”
২০২১ সালে শ্রীলঙ্কা উপকূলে এক্স–প্রেস পার্ল জাহাজের দুর্ঘটনার পর বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ও প্লাস্টিক দানা সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিসের চেয়ারম্যান হেমান্থ উইথানেজ জানান, এতে প্রায় ৬৪০ কোটি ডলারের পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে এবং প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। তিনি আরও বলেন, “প্লাস্টিক দানা ক্ষতিকারক নয়, এমন যুক্তি আর গ্রহণযোগ্য নয়।”
আন্তর্জাতিক কনভেনশন মারপোল অনুযায়ী সমুদ্রে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক ফেলা নিষিদ্ধ। তবে দুর্ঘটনাবশত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম নেই। তাই গবেষকরা দাবি করছেন, প্লাস্টিক দানাকে একটি নির্দিষ্ট UN নম্বর দেওয়া হোক, যাতে এর প্যাকেজিং, লেবেলিং ও পরিবহনে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করা যায়।
বিজ্ঞানী থেরেসা কার্লসন বলেন, “প্লাস্টিক তৈরিতে হাজার হাজার রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যার অনেকগুলো পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সমুদ্রকে এই বিষাক্ত প্লাস্টিক দানার হাত থেকে রক্ষা করতে এখনই বিশ্বব্যাপী কঠোর আইন প্রণয়নের সময়।”
সূত্র: আর্থ ডটকম