রমজান শুরু হতেই রাজধানীর ফলের বাজারে লেগেছে দামের ঝড়। ইফতারের অপরিহার্য উপকরণগুলো কিনতে গিয়ে হাঁসফাঁস করছেন সাধারণ ক্রেতারা। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে অনেক ফলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দেখা দিয়েছে অস্বস্তি ও ক্ষোভ।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা বাজার ও আশপাশের এলাকায় ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র মিলেছে। সকালবেলায় ভিড় তুলনামূলক কম থাকলেও যারা ফল কিনতে এসেছেন, তাদের অনেকেই দামের কথা শুনে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মেডজুল খেজুর। প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এ খেজুর। মরিয়ম খেজুরের কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, কালমী ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, সুকারী ৮০০ টাকা এবং মিনিফী ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
খেজুরের পরেই দামের তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে আনার, যা মানভেদে প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কালো আঙুরের কেজি ৬০০ টাকা এবং সবুজ আঙুর ৪৬০ টাকা।
এ ছাড়া গ্রিন আপেল ও ড্রাগন ফল ৪২০ টাকা, ফুজি আপেল ও নাশপাতি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কমলার কেজি ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা এবং মালটা ৩৫০ টাকা।
তুলনামূলক কম দামের ফলের মধ্যেও বেড়েছে মূল্য। পেঁপে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, বরই ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, পেয়ারা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বেল ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেশীয় ফলের সরবরাহ বাজারে থাকলেও রমজান উপলক্ষে আগের তুলনায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। কলার বাজারেও রয়েছে ঊর্ধ্বগতি—ডজনপ্রতি সবরী ও সাগর কলা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং চম্পা কলা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দাম যাচাই করতে আসা ক্রেতা শাহনাজ পারভিন বলেন, ‘এই মাসের শুরুতে গ্রিন আপেল কিনেছি ৩২০ টাকায়, আজ চাচ্ছে ৪২০ টাকা। রোজা আসলে ব্যবসায়ীরা সব সময় এমন করে। মনে হয় রোজার মাসে এসব ফল অন্য কোথাও থেকে আমদানি করা হয়।’
আরেক ক্রেতা আশিকুর রহমান জানান, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সবুজ আঙুরের দাম ৩৩০ টাকা থেকে ৪৬০ টাকায় পৌঁছানো সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।
দামের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তালতলা মার্কেটের ফল ব্যবসায়ী আব্দুর জালিল বলেন, তারা বাদামতলী পাইকারি আড়ত থেকে ফল সংগ্রহ করেন এবং সেখানে দামের তারতম্য থাকে। তিনি বলেন, ‘পাইকারিতে যেমন দামে কিনি, সীমিত লাভে তেমন দামেই বিক্রি করি। অনেক সময় ফলের নিচে নষ্ট বের হয়, সেই লোকসানও আমাদের গুনতে হয়।’
অন্যান্য বিক্রেতাদের ভাষ্য, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও রমজানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে। তাদের দাবি, কাঁচাপণ্য বিক্রি করা এখন বেশ কঠিন; প্রতিদিনই দামের পরিবর্তন হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের ধারণা, অতিরিক্ত মুনাফার কারণেই বাজারে এমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।