সুপার এইটের সমীকরণ আগেই চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ দিকের ম্যাচগুলো অনেকটা আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে। ২০ দলের এই আসর এখন সংকুচিত হয়ে আট দলে এসে ঠেকেছে। আসর থেকে বিদায় নেওয়া ১২ দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক ছিল সাবেক চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার ছিটকে যাওয়া। জিম্বাবুয়ের কাছে ২৩ রানে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে অজিদের। খাদের কিনারে থাকা সেই অস্ট্রেলিয়াকে আজ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাগে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে ওমান।
কলম্বোর প্রেমাদাসায় আগামীকাল পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার লড়াই দিয়ে শুরু হবে রোমাঞ্চকর সুপার এইট পর্ব। তার আগে আজ পাল্লেকেলেতে ওমানের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে অজিদের ঝুলিতে রয়েছে মাত্র একটি জয়। অন্যদিকে ওমানের অবস্থা আরও শোচনীয়; তিনটি ম্যাচের প্রতিটিতেই তারা বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে। জিম্বাবুয়ের কাছে ৮ উইকেট, শ্রীলঙ্কার কাছে ১০৫ রান এবং আয়ারল্যান্ডের কাছে ৯৬ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে এশীয় দলটি।
পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই দুই দল এখন পর্যন্ত মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে সেই দেখায় অজিদের কাছে পাত্তাই পায়নি ওমান। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। জিম্বাবুয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হার এবং ট্রাভিস হেড ও অ্যাডাম জাম্পাদের অফ-ফর্ম ওমানকে নতুন করে সাহস জোগাচ্ছে। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ওমান অধিনায়ক জতিন্দর সিং বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেন, "টি-টোয়েন্টি মূলত সঠিক সময়ের মোমেন্টাম ব্যবহারের খেলা। অস্ট্রেলিয়া এখন খুব একটা ছন্দে নেই, আর এটাই তাদের হারানোর সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা যদি সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারি, তবে ভালো কিছু করা অসম্ভব নয়।"
২০১৫ সাল থেকে ওমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত খেললেও তাদের বেশিরভাগ ম্যাচই ছিল সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে। ২০২৫ সালে তারা ৮টি ওয়ানডে ও ১৫টি টি-টোয়েন্টি খেললেও বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পায় খুব কমই। জতিন্দর সিং মনে করেন, ওমান ক্রিকেটের উন্নতির জন্য নিয়মিত আন্তর্জাতিক সিরিজ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাদের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। তার মতে, প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে খেলার সুযোগ না বাড়লে বড় দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমানো কঠিন হবে।
উল্লেখ্য, এবারের সুপার এইটে গ্রুপ-১ এ রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে গ্রুপ-২ এ স্থান পেয়েছে শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে লড়বে এবং আগামী ৮ মার্চ শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।