২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৫ এ.এম

‎রমজানের শুরুতেই মাছ-মাংসের দামে আগুন

‎রমজানের শুরুতেই মাছ-মাংসের দামে আগুন

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে না হতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে মাছ ও মাংসের দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রোজাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই অসাধু সিন্ডিকেট বা সরবরাহ সংকটের অজুহাতে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে আমিষের জোগান। বর্তমানে বাজারে ৩৫০ টাকার নিচে কোনো ধরনের মাছ মেলাই ভার হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, কৃষি মার্কেট, জিগাতলা ও সেগুনবাগিচাসহ বেশ কয়েকটি প্রধান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ ও মাংসের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও দাম শুনে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও যে রুই, কাতলা বা মৃগেল তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেত, তা এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় ঠেকেছে। ইলিশের দাম আকারভেদে ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। এমনকি সাধারণ মানুষের ভরসা হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছও এখন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার নিচে মিলছে না। দেশি মাছের মধ্যে পাবদা, টেংরা বা বোয়াল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকায়।

মাছের পাশাপাশি মাংসের বাজারেও অস্বস্তি কাটছে না। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তারা নিরুপায়। মোহাম্মদপুরের বিক্রেতা আব্দুস সবুর জানান, কারওয়ান বাজার থেকে চড়া মূল্যে পণ্য সংগ্রহ করার পর পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে কম দামে বিক্রির কোনো সুযোগ থাকে না। একইভাবে ঝিগাতলা বাজারের বিক্রেতারাও পাইকারি বাজারের অস্থিরতা ও অতিরিক্ত খরচকে দায়ী করেছেন।

তবে সাধারণ ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, রমজান এলেই কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বাজার সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। শরীফ উদ্দিন নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোজার আগে যে মাছ তিনি ২৮০ টাকায় কিনেছেন, তা এখন ৩৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। সেগুনবাগিচা বাজারে আসা জসিম উদ্দিন নামের আরেকজন জানান, নিত্যপণ্যের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তিনি আগে কখনো দেখেননি। বাজার তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকার অভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীরা ফায়দা লুটছেন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।