২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪ এ.এম

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ,হাসপাতালে ভাঙচুর ও সংঘর্ষ

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ,হাসপাতালে ভাঙচুর ও সংঘর্ষ

বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় অবস্থিত প্রভাতী ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় মারধুর ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

নিহত জবা বালা রানী (৩০) জেলার কাহালু উপজেলার শিবাকলমা ইউনিয়নের শিপন চন্দ্রের স্ত্রী। তিনি ছয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন বলে জানা গেছে। স্বজনদের দাবি, গত বুধবার তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে জবাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান যে, তার গর্ভের সন্তানটি মারা গেছে এবং দ্রুত গর্ভপাত করানো প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি হিসেবে একটি ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই জবার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়। সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর জবার মরদেহ নিয়ে স্বজনরা পুনরায় প্রভাতী হাসপাতালে ফিরে আসেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চান। এই সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বামী শিপন চন্দ্র ও স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের চরম অবহেলার কারণেই জবার অকাল মৃত্যু হয়েছে। উপরন্তু, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে হাসপাতালের লোকজন উল্টো তাদের ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে।

হাসপাতালের ম্যানেজার রুবেল এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, রোগীর স্বজনরাই হুট করে হাসপাতালে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে তিনি জানান।

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থেকে থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি।