রাশিয়া কিংবা চীন—কোনো রাষ্ট্রই গোপনে কোনো ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ক্রেমলিন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে তোলা এ সংক্রান্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন রুশ সরকারের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। রাশিয়ার আগে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিকে নাকচ করে দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, ২০২০ সালে চীন গোপনে একটি পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই অভিযোগের সূত্র ধরে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে রাশিয়ার পাশাপাশি চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন ও অধিকতর শক্তিশালী অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়। মূলত এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
বুধবার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে বিভিন্ন সময়ে সুনির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষার বিষয়ে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে রুশ ফেডারেশন ও চীনের নাম জড়ানো হচ্ছে। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, রাশিয়া বা চীন কেউই গোপনে কোনো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি।
ক্রেমলিনের এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি পরিষ্কার যে, পশ্চিমা বিশ্বের তোলা তথাকথিত এই অভিযোগগুলো তারা কেবল অস্বীকারই করছে না, বরং একে ভূ-রাজনীতির একটি কূটচাল হিসেবে দেখছে। পারমাণবিক নিরাপত্তার প্রশ্নে মস্কো ও বেইজিং যে অভিন্ন অবস্থানে রয়েছে, পেসকভের এই মন্তব্য তারই প্রতিফলন বলে ধারণা করা হচ্ছে।